
দুই হত্যা ও গুম মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে নতুন এসপি হিসেবে পদায়নের পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তার নিয়োগ বাতিল ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর বুধবার (৬ মে) ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জমা দেন।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মাহবুব আলম খান।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক হত্যা ও গুমের মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে আলোচিত একটি মামলায় যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় তার ভাই ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিমকে গুম করার অভিযোগও রয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে পুলিশের একটি অভিযানের পর মিজানকে আটক করা হয়। পরে পরিবারের অভিযোগ, তাকে মুক্তির জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরেক ভাই রেজাউল করিমকেও তুলে নেওয়া হয় এবং তিনি এখনো নিখোঁজ।
পরিবারের দাবি, ২০১৭ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় মিজান নিহত হন, আর রেজাউলের কোনো সন্ধান আজও মেলেনি। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও গুম কমিশনেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়ের হওয়া আরেকটি হত্যা মামলাতেও মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
মাহবুব আলম খানের পদায়নের প্রতিবাদ জানিয়ে নিহতের ভাই ও জেলা ছাত্রদলের এক নেতা অভিযোগ করেন, ‘মামলার আসামিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিচার চাই।’
এক মানবাধিকার আইনজীবী বলেন, গুরুতর ফৌজদারি মামলার অভিযুক্ত কাউকে জেলার শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা দায়িত্বে বসানো প্রশ্নের জন্ম দেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব আলম খান দাবি করেছেন, একটি মামলায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে এবং অন্য মামলার ঘটনার সময় তিনি প্রশিক্ষণে ছিলেন। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে তিনি অভিযোগ থেকেও মুক্ত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।