
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক জটিলতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করা এবং নতুন সরকারের শপথ বিলম্বিত হওয়ায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করার অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি লোকভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেবেন না বলেও ঘোষণা করেছেন।
অন্যদিকে সাংবিধানিকভাবে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপরও নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত কীভাবে প্রশাসন চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আইনগত ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন সরকার গঠিত না হলে স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
এদিকে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সাধারণত পদত্যাগ করে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু এবার ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রবীণ আইনজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিদায়ী সরকার দায়িত্বে না থাকে এবং নতুন সরকারও শপথ না নেয়, তবে প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে রাষ্ট্রপতি শাসনের পথে যেতে হতে পারে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।
এদিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা রাজ্যপালের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এর ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সাংবিধানিক সংকটের এই পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।