
প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই তামিল নাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্র তারকা জোসেফ বিজয়। তাঁর দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) রাজ্যের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য এখনো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এ পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর সমর্থন চাইছে বিজয়ের দল।
২৩৪ সদস্যের তামিল নাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন। ফলে ক্ষমতায় যেতে দলটিকে আরও অন্তত ১০ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনের ফলাফলে দীর্ঘদিনের দুই প্রধান শক্তি দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগমের (এআইএডিএমকে) আধিপত্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। রাজ্যে প্রায় ছয় দশক ধরে পালাবদলের রাজনীতি করা এই দুই জোটকে পেছনে ফেলে একক বৃহত্তম দল হয়েছে বিজয়ের টিভিকে।
এবারের নির্বাচনে ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক এআইএডিএমকে জিতেছে ৪৭টি আসনে।
অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি আসন। বামপন্থি দলগুলোর মধ্যে সিপিআই ও সিপিআইএম পেয়েছে দুটি করে আসন। এছাড়া বামঘরানার ভিসিকে পেয়েছে আরও দুটি আসন। এই দলগুলোর সমর্থন পেলে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যা অতিক্রম করতে পারবে টিভিকে।
কংগ্রেস ইতোমধ্যে টিভিকেকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে তারা শর্ত দিয়েছে, কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে জোটে গেলে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করা হবে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্কের মধ্যেই টিভিকের একটি প্রতিনিধি দল এআইএডিএমকে নেতা এডাপ্পাডি কে পালানিস্বামীর সঙ্গে বৈঠক করেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। চেন্নাইয়ে তাঁর বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক ঘিরে এআইএডিএমকের অভ্যন্তরীণ মতভেদও সামনে এসেছে।
নির্বাচনে বিজয় নিজে ট্রিচি ইস্ট ও পেরামবুর, দুই আসন থেকেই জয় পেয়েছেন। রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, তিনি ট্রিচি ইস্ট আসনটি ছেড়ে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সেখানে আবারও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।