
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজায় শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগামী শনিবার (৯ মে) সকালে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) দুপুরে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার পর বৃষ্টির মরদেহ একটি ফিউনারেল প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে। এ সময় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রতিনিধিও বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
আগামী শনিবার (৯ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত সোমবার দেশে আনা হয়। পরে জামালপুরের মাদারগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী লিমন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি সেখানে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
দুজনের বয়সই ছিল ২৭ বছর। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং পড়াশোনা শেষে বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল থেকে তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোন বন্ধ থাকায় এবং কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে ২৪ এপ্রিল একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে তার পরিবারকে জানানো হয়।
ঘটনার পর লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টির খোঁজে অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষার পর গত ১ মে পরিবারকে নিশ্চিত করা হয়, সেটি বৃষ্টির মরদেহের অংশ।