
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর এক আধুনিক প্রযুক্তি। ‘স্টার’ নামের এই পদ্ধতি খুব অল্প বা প্রায় অদৃশ্য শুক্রাণুও শনাক্ত করতে সক্ষম হওয়ায় দীর্ঘদিন সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের জন্য নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বহু পুরুষ ‘আজোস্পার্মিয়া’ নামের একটি সমস্যায় ভোগেন, যেখানে শুক্রাণুর পরিমাণ অত্যন্ত কম বা প্রায় অনুপস্থিত থাকে। বন্ধ্যাত্বের একটি বড় অংশ এই কারণেই ঘটে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ‘স্টার’ বা শুক্রাণু অনুসন্ধান ও সংগ্রহ পদ্ধতি তৈরি করেছেন।
এই প্রযুক্তিতে মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে নমুনার মধ্যে থাকা বিরল শুক্রাণু শনাক্ত করা হয়। পরে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তা আলাদা করা সম্ভব হয়। গবেষকদের মতে, যেখানে আগে হাতে পরীক্ষা করতে দীর্ঘ সময় লাগত, সেখানে এখন মিলিসেকেন্ডের মধ্যে ফল পাওয়া যাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে আগে অপ্রত্যাশিতভাবে শুক্রাণু শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এটি প্রায় ৪০ গুণ বেশি কার্যকর বলে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির এক দম্পতির দীর্ঘ আড়াই বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে। চিকিৎসার পর তারা সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হন। ওই পুরুষ রোগীর ক্ষেত্রে ‘ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম’ নামে একটি জিনগত সমস্যা ছিল, যেখানে সাধারণত শুক্রাণু উৎপাদন খুব সীমিত থাকে।
২০২৫ সালের শেষ দিকে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথম সফল জন্মের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরও অনেক দম্পতি এই চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি আশাব্যঞ্জক হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবুও চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অগ্রগতি বন্ধ্যাত্বের মতো কঠিন সমস্যায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন তারা।