
স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনেকের কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশই নির্ভর করে এই ছোট ডিভাইসটির ওপর। কিন্তু ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো, কিছুদিন যেতে না যেতেই ফোনের ব্যাটারি দ্রুত চার্জ শেষ হতে শুরু করে। সকালবেলায় পূর্ণ চার্জ দেওয়া ফোনও দুপুরের আগেই লাল সংকেত দেখায়। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এর বড় কারণ শুধু ফোনের বয়স নয়, বরং ব্যবহারকারীদের কিছু ভুল অভ্যাস।
বর্তমান সময়ের প্রায় সব স্মার্টফোনেই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের ব্যাটারি দীর্ঘ সময় শতভাগ চার্জে থাকলে ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ব্যাটারির ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে তখনই, যখন সেটি দীর্ঘ সময় ০ শতাংশের কাছাকাছি বা ১০০ শতাংশ চার্জে থাকে। তাই এখন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ ব্যাটারি ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
অনেকের অভ্যাস রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে লাগিয়ে রেখে সকালে খুলে নেওয়া। আধুনিক স্মার্টফোনে অতিরিক্ত চার্জ নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি থাকলেও দীর্ঘ সময় চার্জে সংযুক্ত থাকলে ব্যাটারির ভেতরে তাপ তৈরি হতে পারে। আর অতিরিক্ত তাপই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চ তাপমাত্রা ব্যাটারির রাসায়নিক উপাদান দ্রুত ক্ষয় করে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর ধারণক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু চার্জ দেওয়ার অভ্যাস নয়, ফোন ব্যবহারের ধরনও ব্যাটারির আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলে। যেমন ভারী গেম খেলার সময় চার্জ দেওয়া, সরাসরি রোদে ফোন ব্যবহার, কিংবা বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জে দেওয়া ব্যাটারিকে দ্রুত গরম করে ফেলে। এতে শুধু চার্জ কম ধরে না, কখনো কখনো ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
নিম্নমানের বা নকল চার্জার ব্যবহারও বড় সমস্যা। বাজারে কম দামের অনেক চার্জার থাকলেও সেগুলোর ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। এতে ব্যাটারিতে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। প্রযুক্তিবিদরা সবসময় ফোন নির্মাতার অনুমোদিত বা মানসম্মত চার্জার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, ফোনের ব্যাটারি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চার্জ দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু আধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে এই ধারণা সঠিক নয়। বরং বারবার ০ শতাংশে নামিয়ে ফেললে ব্যাটারির স্থায়িত্ব আরও কমে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, ছোট ছোট চার্জিং সাইকেল ব্যাটারির জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।
বর্তমানের অনেক স্মার্টফোনে ‘অপটিমাইজড চার্জিং’ বা ‘ব্যাটারি প্রটেকশন’ নামের বিশেষ ফিচারও যোগ করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর অভ্যাস বুঝে ধীরে ধীরে চার্জ সম্পন্ন করে, যাতে ফোন দীর্ঘ সময় ১০০ শতাংশ চার্জে পড়ে না থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভব হলে এই ধরনের ফিচার চালু রাখা ভালো।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের ব্যাটারি একদিনে নষ্ট হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট অসতর্কতাই ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই চার্জিংয়ের সময় একটু সচেতন হলেই একটি ফোনের ব্যাটারি অনেক বেশি দিন ভালো রাখা সম্ভব।