
ঢাকা-১৩ আসনের জনসংখ্যা ও বসতির পরিমাণ বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে ২০২৭ সালের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে পৃথক দুটি থানা প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বসিলা এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে আয়োজিত ‘মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদপুর ঢাকা শহরের অন্যতম বৃহৎ জনসংখ্যার এলাকা। বিশাল এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যেই বসিলা ও রায়েরবাজারের বাসিন্দাদের জন্য পৃথক দুটি থানা কার্যকর করার প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে থানা দুটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, গত কয়েক মাসে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তবে কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকা থেকে অপরাধীরা এসে বসিলা বা মোহাম্মদপুরে অপরাধ করে যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য বসিলা ব্রিজ এলাকায় শক্তিশালী বিট পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার পরিবেশ আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুরে শিগগিরই একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতের শৃঙ্খলার বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম নেই। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি হবে।
তিনি জানান, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি কার্যকর নিবন্ধন ও আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি জনগণের মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুধু অফিসে বসে বা সংসদে কথা বললেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মানুষের ঘরে গিয়ে তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যা শুনতে হবে। ঢাকা-১৩ আসনকে এমন একটি নিরাপদ, আধুনিক ও আদর্শ আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য, যেখানে পুরো দেশের মানুষ বসবাসের স্বপ্ন দেখবে।’
মতবিনিময়ের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী এসব বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।