বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি গণমাধ্যমের কার্যক্রমে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন। গণমাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও পেশাদারিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৮ জুন) তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও আবেদনপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আবেদনে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার আওতাধীন পাঁচটি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে পেশাদারিত্বহীন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রুপটির বিরুদ্ধে জমি দখল, আর্থিক অনিয়ম, ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত জটিলতা এবং অর্থ পাচারের মতো বিভিন্ন অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এম সারওয়ার হোসেন বলেন, এসব গণমাধ্যমকে বন্ধ করার দাবি নয়, বরং সেগুলোকে পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ ও এর মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কেউ কথা বললেই সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয় বলে তাঁর অভিযোগ। এ কারণে গণমাধ্যমগুলোর কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের দায়ী করেননি এই আইনজীবী। তাঁর ভাষ্য, ‘এই মিডিয়া হাউজের সাংবাদিক ভাইয়েরা, তারা বাধ্য হইয়া এই অনৈতিক অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদেরকে আমি দোষ দেই না।’
আবেদনের বিষয়ে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করার কথাও জানিয়েছেন এম সারওয়ার হোসেন।