
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে তথ্য গোপন বা ডেটা কারসাজির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এক বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) জানিয়েছেন, বিগত আমলের সন্দেহজনক সমস্ত ডেটা ও পরিসংখ্যান বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং এগুলোর প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনে ‘ফরেনসিক রিভিউ’ বা চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
আজ রোববার (৭ জুন) দুপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আগের দেওয়া সমস্ত তথ্য-উপাত্ত বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে বিবিএসকেই পুনরায় পর্যালোচনা করার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে দেশের যেকোনো অর্থনৈতিক ডেটা প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত চাই। কোনো পরিসংখ্যান কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখতে চাই না। বরং প্রকৃত অবস্থা জানতে চাই। তাই কোনো কারসাজি যেন না হয়, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি কীভাবে গণনা করা হয়, তাও আমরা খতিয়ে দেখবো।’
মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা ও অপচয় রোধের বিষয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘৬০-৭০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে, এমন প্রকল্পের পর্যালোচনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কর্মসূচির আওতায় একগুচ্ছ সমজাতীয় প্রকল্প নেওয়া হতে পারে। প্রকল্পের সময় কিংবা খরচ বৃদ্ধির দায় নিতে হবে প্রকল্প পরিচালকদের—প্রধানমন্ত্রী এমন স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রকল্প পরিচালকদের পুল তৈরির নীতিমালা হচ্ছে।’
চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও নতুন বাজেট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, এবারের জাতীয় বাজেটে দেশের একদম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে এবার বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ এর প্রত্যক্ষ সুফল পান। এর পাশাপাশি দেশের ধুঁকতে থাকা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং একটি সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নীতি প্রণয়নে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।