
দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো ধরনের জুডিশিয়াল হস্তক্ষেপ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। হাইকোর্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমরা বিসিবি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবো না।’ এর ফলে বিসিবির আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পথ অনেকটাই সুগম হলো বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
আজ রোববার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। এর আগে আগামী ৭ জুন নির্ধারিত থাকা বিসিবির সাধারণ নির্বাচন স্থগিতের আরজি জানিয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানান আদালত।
শুনানিতে আইনজীবীদের অবস্থান
আদালতে আজ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদনের পক্ষে আইনি লড়াই করেন অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।
জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি বিসিবির নির্বাচন স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে উচ্চ আদালতে এই আবেদনটি করেছিলেন। শুনানি শেষে বিসিবির প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান সাংবাদিকদের আদালতের অবস্থান নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালত বলেছেন- আমরা বিসিবি নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না।’
তামিমের এডহক কমিটি বাতিলের দাবিতে সাবেক তারকাদের রিট
বিসিবি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। এর ঠিক একদিন আগে, শনিবার (১৬ মে) জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান ১১ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি পুরোপুরি বিলুপ্ত বা বাতিল ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে আরও একটি পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।
দেশের সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবির সাবেক কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব যৌথভাবে এই রিট আবেদনটি আদালতে জমা দেন। আবেদনকারী এই ১২ জনের তালিকায় দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের বেশ কয়েকজন অত্যন্ত পরিচিত ও তারকা মুখ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন—জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ফারুক আহমেদ এবং খালেদ মাসুদ পাইলট।
নির্বাচন এবং এডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে এই দুই পিটিশনের পর আগামী জুনের বহুল প্রতীক্ষিত বিসিবি নির্বাচন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।