
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া হলেও দেশে ফিরে সমর্থকদের অভূতপূর্ব ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। রানার্সআপ হয়ে বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের উষ্ণ ও বীরোচিত অভ্যর্থনা জানানো হয়। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকেপ্রিয় তারকাদের একনজর দেখতে বিমানবন্দরে জড়ো হন হাজার হাজার অনুরাগী।
বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের পর জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি ও স্কোয়াডের সদস্যদের সম্মান জানাতে হাজির ছিল ‘রেজিমেন্ট অব মাউন্টেড গ্রেনেডিয়ার্স’-এর বিশেষ ব্যান্ড দল। তারা সমর্থকদের কাছে অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় ‘মুচাচোস’ গানটি পরিবেশন করে পুরো পরিবেশকে আবেগঘন করে তোলে। এরপর ফুটবলারদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। সফরকারী এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন নিকোলাস ওতামেন্দি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারসহ মোট ১৬ জন ফুটবলার।
জাতীয় দলের তারকাদের অভিবাদন জানাতে এজেইজা ট্রেনিং সেন্টার এবং রিচারি হাইওয়ের দুপাশে ভিড় জমিয়েছিলেন অজস্র সমর্থক। কনকনে হাড়কাঁপানো শীত ও মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রিয় দলের প্রতি অনুরাগী ভক্তদের এই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার উপস্থিতি ছিল সত্যিই নজরকাড়া। ভক্তদের অকুণ্ঠ ভালোবাসার জবাব দিতে পুরো দল একটি ছাদখোলা বাসে চেপে সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
দেশবাসীর এমন অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) একটি প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা প্রকাশ করে। বিবৃতিতে সংস্থাটি উল্লেখ করে:
‘আমাদের প্রতিটি খেলোয়াড় মাঠে সমর্থকদের সমর্থন অনুভব করেছে। যে দেশের মানুষ কখনো আমাদের ওপর বিশ্বাস হারায়নি, তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমরা গর্বিত। শিরোপা জিততে না পারলেও এই বন্ধন আমাদের কাছে বিশেষ মূল্যবান।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ২৬ জন সদস্যের মধ্যে সবাই অবশ্য বুয়েনস আইরেসে ফেরেননি; ১৬ জন ফিরলেও বাকি ১০ জন খেলোয়াড় সরাসরি নিজ নিজ ক্লাব কিংবা ব্যক্তিগত গন্তব্যে উড়াল দিয়েছেন। বুয়েনস আইরেসে না ফেরা এই ১০ জনের তালিকায় রয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ এবং হুলিয়ান আলভারেজ। জানা গেছে, দলীয় অধিনায়ক মেসি নিউ ইয়র্ক থেকে সরাসরি মায়ামিতে যান এবং সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে নিজ শহর রোজারিওর উদ্দেশে রওনা দেন।