.webp)
বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে এখন থেকে শিক্ষক নিয়োগে আর সুপারিশ করবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত এনটিআরসিএ শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে সংস্থাটির সক্ষমতার বাইরে গিয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ শুরু করার পর বিভিন্ন জটিলতা, মামলা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এর আওতায় প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপণ এবং প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতি পঞ্জিকা বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে এনটিআরসিএ শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য আর কোনো সুপারিশ করবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে এনটিআরসিএকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ সংস্থাটি শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং প্রত্যয়নপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেবে।
সভায় উপস্থিত সবাই এ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
এদিকে, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থী নিজ পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন কিংবা জারি করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা থেকেই নতুন এ পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর হবে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম এক দশক সংস্থাটি শুধু শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ প্রদান করত। পরে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা শুরু করে এনটিআরসিএ।
এ পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়ম কমে আসার পাশাপাশি যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এনটিআরসিএ ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।