
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই অঞ্চলের ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ’ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। তিনি এই মন্তব্য করেছেন ২ জানুয়ারি চেন্নাইয়ে এক অনুষ্ঠানে, যেখানে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন করা হয়।
জয়শঙ্কর ‘ভালো প্রতিবেশী’ এবং ‘খারাপ প্রতিবেশী’র মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, যেসব দেশ সহযোগিতার মনোভাব রাখে, ভারত তাদের সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ভারতের টিকা কূটনীতি, শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটে ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত মানবিক সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিবেশী দেশ ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যায়, তাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের রয়েছে। জয়শঙ্করের ভাষ্য, “আত্মরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, আমরা সেটাই করব। কীভাবে করব, তা আমাদের সিদ্ধান্ত।” তিনি যুক্তি দেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয় ‘সাধারণ বুদ্ধি ও জাতীয় স্বার্থের’ ভিত্তিতে।
চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারত কীভাবে ‘প্রতিবেশী-প্রথম’ নীতি বজায় রাখছে। জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, তিনি মাত্র দুই দিন আগে ঢাকায় ছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন।
জয়শঙ্কর বলেন, “বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে। আমরা তাদের জন্য শুভকামনা জানাই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই অঞ্চলে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতের প্রবৃদ্ধি এখন একটি জোয়ারের মতো। ভারত এগোলে প্রতিবেশীরাও আমাদের সঙ্গে এগোবে। এতে সবার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।”