
মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টাকে সৌদি আরবের ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে রিয়াদ। সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতেই পরিকল্পিতভাবে এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এই শত্রুতাপূর্ণ প্রচেষ্টা উগ্র সন্ত্রাসী বাহিনী হুতি মিলিশিয়ার লঙ্ঘনের তালিকায় আরেকটি কালো অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে। এটি লাখো মুসলমানের অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে করা একটি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড।’
হুতিদের বিরুদ্ধে ‘প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।
মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)।
৫৭ সদস্যের এই জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলার চেষ্টা পবিত্র স্থান ও মসজিদের মর্যাদার লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিরীহ বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে বলেও জানিয়েছে জোটটি।
ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার সময়েই মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা ঘটল।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবের কয়েকটি শহর লক্ষ্য করে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রিয়াদ। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় খামিস মুশাইত, আভা ও তাইফ শহরে ১৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দায়ও স্বীকার করেছিল হুতিরা।
সৌদি আরবের হামলার অভিযোগের পাশাপাশি হুতিরাও পাল্টা দাবি করেছে, গত শনিবার ও মঙ্গলবার ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সৌদি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে হুতিরা। একই সঙ্গে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের পরিধি বাড়ানোরও চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি।
গত সপ্তাহে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একটি বন্দরনগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি অবস্থিত একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে হুতিরা।