
তেল আবিবের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম হোয়াইট হাউসের কঠোর নির্দেশ—মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এখন মুখোমুখী দুই মিত্র দেশ।লেবানন ও ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক লক্ষ্যগুলো এখন মার্কিন প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও চাপের মুখে পড়েছে।
আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার রক্ষা এবং বড় ধরণের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে ওয়াশিংটন এখন ইসরায়েলের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর শর্ত আরোপ করছে।
লেবানন সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন চাপ
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্থায়ী সামরিক বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনা করে আসছিল। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো দীর্ঘমেয়াদী দখলদারিত্ব তারা সমর্থন করবে না। বিশেষ করে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন সরাসরি তদারকি করছে, যাতে ইসরায়েলি বাহিনী চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমান্ত থেকে সরে আসে।
ইরান ইস্যুতে কৌশলী ওয়াশিংটন
ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার জন্য ইসরায়েল বারবার সুযোগ খুঁজলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস একে 'বিপজ্জনক' বলে মনে করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার এখন তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা, যার প্রতিফলন দেখা গেছে সম্প্রতি ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলকে বার্তা দিয়েছে যে, একক কোনো সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থকে বিঘ্নিত করতে পারে।
![যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ইরানের তেহরানের একটি রাস্তায় ইসরায়েল-বিরোধী ম্যুরালের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। [মাজিদ আসগারিপুর/ওয়ানা]](https://api.dhakawatch24.com/storage/SajibKH/যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি.webp)
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে যে ধরণের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চেয়েছিল, ওয়াশিংটনের 'ডিক্টেট' বা নির্দেশনার কারণে তা এখন বড় ধরণের বাধার সম্মুখীন।
জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়ে ব্যাপক। মার্কিন প্রশাসন তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে ইরান ও লেবানন ফ্রন্টে উত্তেজনা প্রশমনে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। ইসরায়েল যদি মার্কিন এই অবস্থানের বিরোধিতা করে কোনো বড় অভিযান শুরু করে, তবে তা দুই দেশের সম্পর্কে বড় ফাটল ধরাতে পারে।
সংক্ষেপে, মধ্যপ্রাচ্যের ময়দানে ইসরায়েল তার সামরিক সক্ষমতা দেখাতে চাইলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের চাবিকাঠি এখন ওয়াশিংটনের হাতেই থাকছে। মিত্র দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবতার নিরিখে নিয়ন্ত্রণ করার এই মার্কিন নীতিই এখন এই অঞ্চলের রাজনীতির নতুন মোড়।