
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় পটপরিবর্তনের ঘণ্টা বেজে উঠেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো কলকাতার মসনদে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এমনকি বর্তমান মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতেও দেখা যায় বিজেপির কর্মীদের।
সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রতিটি রাউন্ডেই মিলছে গেরুয়া শিবিরের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের ইঙ্গিত।
ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে অনেক দূরে বিজেপি
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের কোটা অনেক আগেই পার করে ফেলেছে বিজেপি। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে:
বিজেপি: ১৯০টিরও বেশি আসনে লিড নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস: বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ১০০টি আসনের নিচে নেমে এসে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
কালীঘাটে উল্লাস, তৃণমূল শিবিরে নিস্তব্ধতা
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ফলাফলের এই জয়জয়কার নিশ্চিত হতেই রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক কালীঘাটে তাঁর বাসভবনের বাইরেও বিজেপি সমর্থকদের ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান ও বিজয়োল্লাস করতে দেখা গেছে। এর বিপরীতে, তৃণমূলের প্রধান কার্যালয়গুলোতে বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা ও গভীর হতাশা।
ঐতিহাসিক পালাবদল ও রাজনৈতিক সমীকরণ
পশ্চিমবঙ্গের গত পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল রাজত্বের পর এই প্রথম কোনো জাতীয় দল হিসেবে বিজেপি এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে প্রবল পরিবর্তনকামী মানসিকতা এবং বিজেপির সুসংগঠিত প্রচার কৌশল এই ঐতিহাসিক ফলাফলের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
তৃণমূল দুর্গে ফাটল
নির্বাচনী ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিজেপি কেবল উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলেই তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখেনি, বরং দক্ষিণবঙ্গের যে জেলাগুলো তৃণমূলের অপরাজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানেও বড় ধরনের ধস নামাতে সক্ষম হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে এখনো কিছুটা সময় বাকি, তবে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে—পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া বিপ্লব এখন আর কেবল সম্ভাবনা নয়, বরং বাস্তব।