
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে হামলার আশঙ্কা এবং বিভিন্ন নেতার বিতর্কিত বক্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্গ সফরের দিনই রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ তোলে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষর একাধিক মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রোববার কলকাতার ইকো পার্ক এলাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলকে মোকাবিলায় বাইরের লোকের প্রয়োজন নেই, তাদের নিজেদের কর্মীরাই যথেষ্ট।
এর আগে ব্রিগেড ময়দানের সভায় বিজেপির তারকা প্রচারক মিঠুন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘আইসিইউতে পাঠানোর’ মতো মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং দলীয় কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনাকে ‘নাটক’ বলেও দাবি করেন।
তবে তার কিছু বক্তব্য, বিশেষ করে কালীঘাটে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত, নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, কালীঘাটেই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন অবস্থিত। ফলে এই মন্তব্যকে অনেকেই সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে হুমকি হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতারা দাবি করছেন, তারা তৃণমূলের ‘সন্ত্রাসের’ বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় বিজেপি হুমকির রাজনীতি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ছে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।