
নরসিংদীর রায়পুরায় একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে, যা স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনাটিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তেমনি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) শিশুটির মা রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে এক আত্মীয়ের বাসায় নেওয়া হলে সেখানেই সে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক জুনাঈদকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘মেডিকেল প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।’
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাত্র দুই মাস আগে শিশুটিকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল। তার ছোট ভাইও একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। শিশুটির স্বজনরা বলেন, ‘বাচ্চাটা এখনো অসুস্থ। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
ঘটনাটি জানাজানি হলে শনিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয়ভাবে সালিশের চেষ্টা হয় বলে জানা গেছে। তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু লোকজন মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালায় এবং সেই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে যান।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন বলছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক মাদ্রাসা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং সবসময় নিয়মিত নজরদারি সম্ভব হয় না। তাই এখন নারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত পরিদর্শনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
ঘটনাটি শুধু একটি অভিযোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কঠোর নজরদারি, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।