
মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত তাজ উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকায় চলছে শোকের মাতম।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহত তাজ উদ্দিনের স্ত্রী অনন্তি বেগম। তিনি জানান, পরিবারের হাল ধরতে মাত্র ছয় মাস আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান তাজ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে নির্মাণকাজের সাইটের পাশের একটি গেস্টহাউজে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অনন্তি বেগম বলেন, ‘এখন আমরা কীভাবে চলব? চার মাসের মেয়েকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব কে নেবে?’ কথাগুলো বলতে বলতে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।
নিহত তাজ উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের আলাদাদপুর গ্রামের কাচারিবাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে।
স্বজনরা জানান, ধারদেনা করে ছয় মাস আগে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় মালদ্বীপে যান তাজ উদ্দিন। সেখানে দিঘুরা আইল্যান্ড এলাকায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। ঘটনার দুই দিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়। তখন ঈদের কেনাকাটার জন্য কিছু টাকা পাঠানোর কথাও বলেছিলেন।
কিন্তু কে জানত, সেটিই হবে তাদের শেষ কথা। বৃহস্পতিবার ভোররাতে দিঘুরা আইল্যান্ডের একটি নির্মাণকাজের সাইটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তাজ উদ্দিনসহ পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হন এবং আরও দুইজন দগ্ধ হন।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিহত অন্যরা হলেন— মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার।
শুক্রবার তাজ উদ্দিনের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তার বৃদ্ধ বাবা-মা শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন।
নিহতের বাবা আবুল কাশেম বলেন, ‘পরিবারের অভাব দূর করতে তাজ উদ্দিন মালদ্বীপে গিয়েছিল। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তার মৃত্যুতে আমাদের সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। ঘরে চার মাসের একটি শিশু কন্যা রেখে সে চলে গেল।’ তিনি দ্রুত ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। তাজ উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।