
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারায় গভীর রাতে অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে, যা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আটক করে। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বারিধারা ডিওএইচএসের ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি ঘিরে ফেলে একটি দল। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার আসামি হিসেবে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তবে এর আগে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। পরে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে দল পরিবর্তন করে জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়লাভ করেন। নির্বাচনের আগেই তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।
এক-এগারোর সময় আলোচিত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা পরবর্তীতে গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় কমিটির অধীনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার মেয়াদ তিন দফা বাড়ানো হয়েছিল।
সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি জনশক্তি রফতানিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।