
ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত নির্ভর করেছিল বলে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে। হামলার প্রস্তুতিতে ভুল গোয়েন্দা তথ্য ও পুরোনো স্যাটেলাইট ছবিও ব্যবহৃত হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে ১২৩ শিশু নিহত হয়।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই দিন স্কুল ভবনে দুটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পেন্টাগনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানতে পারেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীই পরিচালনা করেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও চূড়ান্ত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ছিল না। যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র এক হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল।
ভুল লক্ষ্য নির্ধারণের পেছনে আরও কয়েকটি কারণ কাজ করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ছিল বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং হামলার নির্ধারিত স্থান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব। স্কুলটি একসময় একটি সামরিক স্থাপনার অংশ ছিল। পরে সেটিকে দেয়াল দিয়ে আলাদা করা হয় এবং সেখানে প্রকাশ্যে একটি স্কুল পরিচালিত হচ্ছিল।
তদন্তে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কয়েকজন কর্মকর্তা প্লানতির-এর ‘Maven Smart System’-এর ওপর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি নির্ভর করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, সিস্টেমটি ব্যবহৃত পুরোনো কিংবা পরস্পরবিরোধী গোয়েন্দা তথ্য শনাক্ত করতে পারবে।
তবে প্লানতিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফটওয়্যারে ব্যবহৃত মূল তথ্যের দায় তাদের নয়। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি শনাক্ত করাও তাদের সফটওয়্যারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। মিনাবের ওই হামলার জন্য প্লানতিরের সফটওয়্যার দায়ী ছিল—এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের অনুসন্ধান
এদিকে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে চালানো দুটি মার্কিন বিমান হামলার ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে—এমনটা বিশ্বাস করার মতো যৌক্তিক ভিত্তি তারা পেয়েছে।
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে মিশনটি বলেছে, এমন হামলা চালানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে—এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে, যেগুলোর ফলে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু বা আহত হওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।