
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির ভূমিকা সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই বক্তব্য তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যেসব সহিংসতা বা অস্থিরতা হয়েছে, সেগুলোর মূল কারণ রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক নয়। তাঁর ভাষায়, “আপনি যদি বাংলাদেশের ইতিহাস দেখেন, দেখবেন প্রতিটি পরিবর্তনের পর কিছু সমস্যা হয়েছে ওগুলো রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক নয়। সব সময় ভারতীয় মিডিয়া এটাকে সাম্প্রদায়িক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরতে চায়, কিন্তু এটা সাম্প্রদায়িক নয়; সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। যেমন কেউ যদি আওয়ামী লীগের লোক হয়ে থাকেন এবং কেউ তাঁকে মারধর করে, তাহলে সেটা সাম্প্রদায়িক নয়; এটা রাজনৈতিক।”
বিএনপির আদর্শিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দলটি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৫ শতাংশ মুসলমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি দেশের রাজনীতির জন্য উপযোগী নয়। তাঁর মতে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকলে কোনো সংকট তৈরি হয় না।
আল-জাজিরার পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হবে কি না। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান ইতোমধ্যে জাতির সামনে তাঁর পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, লন্ডন থেকে দেশে ফেরার প্রথম দিনেই বিমানবন্দর ও সড়কে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং সেখানে তারেক রহমান পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর ভাষায়, তিনি জনগণকে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আল-জাজিরার সাংবাদিক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা ৮০টির বেশি মামলার বিষয়টি তুলে ধরেন, যার বেশির ভাগই ছিল দুর্নীতিসংক্রান্ত। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এসব মামলা হয়েছে আগের সরকারের সময়ে। তাঁর বক্তব্য, “সব মামলাই দিয়েছে আগের শাসন, হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন। এসব মামলার বিচার হয়েছে। কিছু তদন্তও হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।”
সাক্ষাৎকারে আরও বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়কে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার কারণে ‘বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক সময়’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এর জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি তা মনে করি না। আমি কখনো কোথাও এটা পড়িনি।”
আল-জাজিরার সাংবাদিক জাতিসংঘের এক জরিপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এতে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের প্রতিশোধমূলক ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। এই দাবির জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এসব তথ্য পক্ষপাতদুষ্ট।