
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মুক্তিপণ না পেয়ে প্রবাসীর ছেলেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি লাল্টু মিয়াকে (৪১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে লাল্টু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে নিখোঁজ হয়। রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনে রাফিজের কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে ছাড়তে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার আট দিন পর, ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠসংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পরে তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়।
আদালতে সোপর্দ করার পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।