
ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের মুখ ঢেকে কথা বলার পরিচিত দৃশ্য এখন অতীত হতে যাচ্ছে। চলমান বিশ্বকাপে ফিফার নতুন বিধানের আওতায় এমন আচরণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আর এই নিয়মে প্রথমবারের মতো লাল কার্ড দেখলেন প্যারাগুয়ের তারকা ফুটবলার মিগেল আলমিরন।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন আলমিরন। ঘটনাটি নজরে আসার পর ম্যাচ কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, মাঠে কথোপকথন গোপন করতে বা ‘লিপ রিডিং’ এড়ানোর উদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে কথা বললে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে লাল কার্ড দেওয়া হতে পারে। বর্ণবাদী, আপত্তিকর বা অনৈতিক মন্তব্য আড়াল করার প্রবণতা রোধ করতেই এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্যারাগুয়ের জার্সি নম্বর ১০ আলমিরন যখন মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে কিছু বলছিলেন, তখন তুর্কি খেলোয়াড়রা বিষয়টি রেফারির দৃষ্টিগোচর করেন। এরপর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এবং মাঠের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কর্মকর্তারা তার আচরণকে নতুন নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেন।
ফলস্বরূপ, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় আলমিরনকে। তার বহিষ্কারের ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় প্যারাগুয়ে। ফুটবল বিশ্বে একেবারেই নতুন এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে। ম্যাচের ধারাভাষ্যকাররাও ঘটনাটিকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে বিতর্কিত এই ঘটনার আগে মাঠের খেলায় আধিপত্য দেখিয়েছিল প্যারাগুয়ে। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৬৫ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন মাতিয়াস গালারজা। প্রথমার্ধ শেষে এক গোলে এগিয়ে ছিল দলটি। কিন্তু আলমিরনের লাল কার্ড এবং কোচের হলুদ কার্ড পাওয়ার ঘটনায় ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
ফিফার দাবি, নতুন এই নিয়মের মূল লক্ষ্য মাঠে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সংস্থাটির সভাপতি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কোনো খেলোয়াড়ের যদি গোপন করার মতো কিছু না থাকে, তাহলে মুখ ঢেকে কথা বলারও প্রয়োজন নেই। আলমিরনের বহিষ্কারাদেশের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলারদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।