.jpeg)
ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি কর্মসূচির সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করা হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিপুল পরিমাণ চাল খাদ্যগুদামে পড়ে রয়েছে। এ ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে চাল উত্তোলন না হওয়ায় একদিকে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীরা সময়মতো খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় প্রতি মাসে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য ডিও ইস্যু করে। কিন্তু ডিওর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ১৫৫ টন চাল এখনো গুদামে পড়ে আছে।
গুদাম সূত্রে জানা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিজিডি চালের মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ মাসের, চাঁচড়া ইউনিয়নের ৩ মাসের, বড় মলংচড়া ইউনিয়নের ৪ মাসের, সোনাপুর ইউনিয়নের ১ মাসের এবং শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ মাসের বরাদ্দের চাল গুদামে রয়েছে। এর বাইরে জুন মাসের ডিওও ইস্যু করা হয়েছে।
এ ছাড়া সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে চাঁদপুরে ১০ টন, সোনাপুরে ৭৫ টন, চাঁচড়ায় ১৪ টন, বড় মলংচড়ায় ৬ দশমিক ৫০ টন এবং শম্ভুপুরে ৪ টনসহ মোট ৩৪০ টন ৫০০ কেজি চাল গুদামে পড়ে রয়েছে। সমুদ্রগামী জেলেদের চাল বিতরণের শেষ সময় ছিল গত ৩১ মে। কিন্তু সেই চালও এখনো গুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়নি।
এ অবস্থায় নতুন সরকারি বরাদ্দের চাল ও ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ উদ্বেগে রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ডিও ইস্যুর পর চাল উত্তোলনে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি দেখা যায়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্যশস্য গুদামে পড়ে রয়েছে। এতে নতুন খাদ্যশস্য সংরক্ষণেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে উপকারভোগী দরিদ্র ও অসহায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সচেতন মহলের মতে, ডিও ইস্যুর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্যশস্য উত্তোলন ও উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও চাল অনুত্তোলিত অবস্থায় পড়ে থাকলে এর কারণ, দায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরো উপজেলায় বরাদ্দের চাল বিতরণ না হওয়ায় অনেকেই অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তারা চাল পাননি। ফলে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছাচ্ছে না।
এ বিষয়ে চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাজাহান মিয়া বলেন, ‘ভিজিডি চাল পরিবহনের জন্য সরকার টনপ্রতি ৪৮০ টাকা দেয়। এ টাকায় চাল পরিবহন করা যায় না। টনপ্রতি খরচ লাগে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। টাকার সমন্বয় না হওয়ায় আমরা গুদাম থেকে চাল আনতে পারিনি। আশা করি খুব শিগগিরই একটি সমাধান হবে।’
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ মার্জিয়া বলেন, ‘আমার জানামতে ডিও হওয়া সব চাল বিতরণ শেষ। তবুও যদি পরিবহন ব্যয়ের কারণে কোনো ইউনিয়ন চাল নিতে না পারে, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা কাছাকাছি স্থানে চাল বিতরণের ব্যবস্থা করে দেব।’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরা ডিও হওয়া চাল উত্তোলনের জন্য প্রতিনিয়ত ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাগিদ দিচ্ছি। তারা চাল না নিলে আমাদের কিছু করার নেই।’ ডিওর মেয়াদ শেষ হওয়া চাল সরকারি গুদামে রাখার নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিন বলেন, ‘ডিও হওয়া সব চাল যত দ্রুত সম্ভব গুদাম থেকে বের করে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।’