
যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক ও মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১০ থেকে ১২ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৩ সাল থেকে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য গোপন তথ্য ফাঁস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব বিজ্ঞানীর অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উচ্চস্তরের গোপন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন, আবার কয়েকজনকে সন্দেহজনক বা আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে বের হয়েছেন এবং এটি খুবই গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে ক্যানসাস সিটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি ক্যাম্পাসের সরকারি কন্ট্রাক্টর স্টিভেন গার্সিয়া ২০২৫ সালের আগস্টে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল উইলিয়াম ম্যাককাসল্যান্ড ২০২৬ সালের শুরুতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এ ছাড়া লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মীও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন।
অন্যদিকে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির এক পরিচালক হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন বলে জানা যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন বিজ্ঞানীর মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে, যাদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃতদেহ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু মৃত্যুর কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধমূলক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, এসব ঘটনার মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট সম্পর্ক বা সংগঠিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র আছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট তথ্য এখনো নেই।