
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) সালাডো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বেল কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়।
শেরিফের মুখপাত্র ক্লিফ কোলম্যান জানান, দুপুর দেড়টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ৯১১-এ ফোন করা হয়। পরে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হেলিকপ্টারে থাকা দুই সেনাকে মৃত অবস্থায় পান। সালাডো শহরটি অস্টিন থেকে প্রায় ৫০ মাইল উত্তরে অবস্থিত।
দুর্ঘটনায় পড়া হেলিকপ্টারটি ছিল সেনাবাহিনীর এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার। এটি ফোর্ট হুডে মোতায়েন ছিল। নিহত দুই সেনার মরদেহ ফোর্ট হুডের কার্ল আর. ডার্নাল আর্মি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার আগে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
টেক্সাসের ১ম ক্যাভালরি ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইথান ডিভেন এক বিবৃতিতে বলেন, “এই কঠিন সময়ে সংশ্লিষ্টদের পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।”
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট নিহত সেনাদের পরিবার এবং ফোর্ট হুড সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “যারা আমাদের রাজ্য ও জাতির সেবা করেন, টেক্সাস তাদের কাছে চিরঋণী থাকবে।”
শেরিফের মুখপাত্র কোলম্যান জানান, হেলিকপ্টারটি একটি মাঠে আছড়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার পর সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আগুন প্রায় ১৫৫ একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
দুর্ঘটনায় কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং আর কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কোলম্যান।
ঘটনাস্থলে স্থানীয় জরুরি সেবা বিভাগের কর্মী, সামরিক সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফোর্ট হুডের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি দুই ইঞ্জিন ও চার ব্লেডের একটি বহুমুখী আক্রমণকারী হেলিকপ্টার। এটি আকাশযুদ্ধে উচ্চ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নকশা করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আকাশযুদ্ধযান’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।