
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং টেকসই নগর উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশলগত পরিবহন মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
হালনাগাদ Urban Rapid Transit Strategic Plan (URSTP) অনুযায়ী, আগামী ২০ বছরে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো গণপরিবহননির্ভর একটি সমন্বিত ও কার্যকর নগর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
মহাপরিকল্পনায় বিদ্যমান ছয়টি মেট্রোরেল লাইনের পাশাপাশি এমআরটি লাইন-৩ ও এমআরটি লাইন-৪ নামে আরও দুটি নতুন মেট্রোরেল রুট যুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো রাজধানীর পরিবহন নেটওয়ার্কে পাঁচটি মনোরেল রুট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রধান মেট্রোরেল লাইনের সহায়ক সংযোগ হিসেবে কাজ করবে।
প্রস্তাবিত মনোরেল রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর–পূর্বাচল–জলসিড়ি–বসুন্ধরা, বিমানবন্দর–উত্তরা–সাভার, মোহাম্মদপুর–পোস্তগোলা, মধ্য বাড্ডা–ভুলতা এবং রামপুরা–ডেমরা করিডোর। এসব রুট বিভিন্ন মেট্রোরেল লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে যাত্রীদের জন্য সহজ ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করবে।
পরিকল্পনায় মেট্রোরেল ও মনোরেলের পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), বিশেষ বাস করিডোর, কমিউটার রেল, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো, ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি) এবং মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিটিসিএর জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, তীব্র যানজটের কারণে ঢাকায় প্রতি বছর প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতি কমানো এবং নগরবাসীর যাতায়াত সময় হ্রাস করতেই গণপরিবহনভিত্তিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
এদিকে পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে ডিটিসিএকে আরও শক্তিশালী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সংস্থাটিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এনে “ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট অথরিটি” নামে একটি স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে যানজট, সময় অপচয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।