
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষজুড়ে ছিল চরম উত্তেজনা ও নীরবতা। রায় শোনার পর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও বাইরে ক্ষুব্ধ জনতা ‘খুনি খুনি’ স্লোগানে ফেটে পড়ে।
রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একইসঙ্গে সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে স্বপ্নাকে কাঁদতে দেখা গেলেও রায় পড়া শেষ হওয়ার পর দুজনই নীরব থাকেন। কাঠগড়া থেকে নামানোর সময়ও তাদের কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া ছিল না। এর আগে সোহেলকে দোয়া-দরুদ পড়তে দেখা গেলেও স্বপ্না কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে উপস্থিতরা জানান।
রায় ঘোষণার পরপরই দুপুরের দিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা আসামিদের উদ্দেশে ‘খুনি খুনি’ স্লোগান দেয় এবং দ্রুত দণ্ড কার্যকরের দাবি জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়।
রায় ঘিরে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান আসামি স্বপ্না। পরে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন সোহেল রানা। হত্যার পর শিশুটির মরদেহ বিকৃত করা হয় এবং এ কাজে স্বামীকে সহায়তা করেন স্ত্রী স্বপ্না।
ঘটনার পরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মাত্র চার কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শেষ হয়।