
শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ—অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে টালিউডের শিল্পীরা।
রাহুল অরুণোদয় অকাল মৃত্যু ঘিরে অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর প্রতিবাদে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্ট ফোরাম। অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৫ এপ্রিল) টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুসারে, ইনডোর ও আউটডোর শুটিংয়ে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আগামী ৭ এপ্রিল থেকে টালিউডে সব ধরনের কাজ বন্ধ থাকবে।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, সৌরভ দাস, ইন্দ্রাশিষ রায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, অঞ্জনা বসু ও জীতু কমলসহ আরও অনেকে।
কর্মবিরতির বিষয়ে আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “প্রত্যেকের নিরাপত্তার জন্যই এ লড়াই শুরু করতে হয়েছে। প্রতিদিন শিল্পীরা মাথায় চিন্তা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন, এটা আর চলতে পারে না। রাহুল সকলকে চোখে আঙুল দিয়ে এটা শিখিয়ে দিয়ে গেলেন। তাই মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি পালন করতে হবে সকলকে।”
এ বিষয়ে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাহুলের মৃত্যু শুটিংয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। ওর এইভাবে চলে যাওয়াটা তো কাম্য ছিল না। রাহুলের মৃত্যু ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত ভেদাভেদ সরিয়ে দিল। ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা বলেন, “রাহুলের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। ও আমাদের একজোট করে চলে গেল।”
গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে ‘ভোলবাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালে সমুদ্রে ডুবে মারা যান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তার স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াংকা সরকার প্রযোজনা সংস্থার অবহেলাকেই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন।
তিনি কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে ওড়িশার তালসারিতেও দ্বিতীয় দফায় মামলা করা হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।