
বিশ্বকাপ শেষে বহুল আলোচিত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। ফ্রি ট্রান্সফারে তাকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাবটি। ফলে দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার দুই মুখ এখন খেলবেন একই জার্সিতে।
বুধবার (২২ জুলাই) ক্লাবের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাসেমিরোর সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ মৌসুম পর্যন্ত ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলবেন ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। এছাড়া পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ওয়ার্ক পারমিট সম্পন্ন হওয়ার পরই তিনি মাঠে নামতে পারবেন।
গত মৌসুম শেষে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়েন কাসেমিরো। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন চলছিল। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সেই জল্পনাই বাস্তবে রূপ নিল।
নতুন অধ্যায় শুরু করতে পেরে উচ্ছ্বসিত কাসেমিরো বলেন, ‘জেতা এবং নিজের উন্নতি অব্যাহত রাখাই আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। ক্লাব যে পরিকল্পনা আমার সামনে তুলে ধরেছে এবং এই চুক্তি সম্পন্ন করতে যে পরিশ্রম করেছে, তা আমার কাছে অনেক কিছু বোঝায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আস্থার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। মাঠে ও মাঠের বাইরে, ম্যাচে কিংবা প্রতিদিনের অনুশীলনে এর প্রতিদান দিতে মুখিয়ে আছি। ক্লাব এবং সমর্থকদের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেব।’
ইন্টার মিয়ামির সহ-স্বত্বাধিকারী ডেভিড বেকহ্যামও নতুন এই সাইনিংয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কাসেমিরো এবং তার পরিবার ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দিচ্ছে জেনে আমি দারুণ খুশি। একজন খেলোয়াড় এবং মানুষ হিসেবে আমি সবসময়ই তাকে প্রশংসা করে এসেছি। সে জয়ে অভ্যস্ত একজন চ্যাম্পিয়ন। রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দুর্দান্ত ক্যারিয়ারের পর, তার নতুন গন্তব্য হিসেবে মিয়ামিকে বেছে নেওয়ায় আমি আনন্দিত।’
ক্যারিয়ারে ইউরোপের অন্যতম সফল মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কাসেমিরো। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আট মৌসুমে তিনি পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, তিনটি লা লিগা ও তিনটি ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন। ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে একটি এফএ কাপ ও একটি ইংলিশ লিগ কাপের শিরোপাও জেতেন। জাতীয় দলের জার্সিতে ব্রাজিলকে একটি কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: কাদেনা সের।