
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক পদক্ষেপের আপাতত সমাপ্তি টানার কথা ঘোষণা করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। তবে এই যুদ্ধবিরতি বা শান্ত পরিস্থিতির মাঝেও তেল আবিবকে কড়া বার্তা দিয়ে তেহরান স্পষ্ট সতর্ক করেছে যে, লেবাননের মাটিতে যদি নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে ইসরায়েলকে এর চেয়েও বহুগুণ কঠোর ও নির্মম জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।
আজ সোমবার (৮ জুন) আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান সামরিক অভিযান শেষ হলেও পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
আল জাজিরা ও বিবিসির যৌথ তথ্যমতে, আজ সোমবার সকালে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরই পাল্টা আকাশপথের আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের সেই বিধ্বংসী অভিযানের পর ইরানের রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ ও ইস্পাহানের মতো প্রধান প্রধান শহরগুলোতে একাধিক শক্তিশালী ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে শোনা যায়।
এর আগে লেবাননের ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তেহরান। এর প্রতিশোধ হিসেবে উত্তর ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। সেই সময় দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল, এটি তাদের ধারাবাহিক হামলা অভিযানের সূচনা।
এদিকে গত এপ্রিল মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই প্রথমবারের মতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এমন সরাসরি ও মুখোমুখি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেন আর নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য তিনি উভয় পক্ষকেই অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক অভিযান ও উস্কানি বন্ধ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।