
জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধে নিজের পরিবারের ‘শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধা’ পরিচয় তুলে ধরে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী হলফনামার তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যে তার দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অসংগতি সামনে এসেছে, যেখানে তার বাবা জীবিত এবং তিনি নিজে ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন বলে জানা যায়।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। অথচ গত রোববার বাজেট অধিবেশনে তিনি সংসদে বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’
স্থানীয় সূত্র বলছে, তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো জীবিত। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবং স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম এই প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারী শিক্ষক। তাঁর মা-বাবা বেঁচে আছেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যটি স্লিপ অব টাং (মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন)। তিনি শিগগির নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সাংবাদিকদের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন।’
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ‘রোববার সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারণ করা হয়েছে। আমি এ জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এটি সংশোধনের জন্য সংসদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করার কাজ চলমান রয়েছে।’
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি সৈয়দপুর শহরের রেলবাজার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন এবং ছোটবেলায় হাফেজ হন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।