
নতুন সংসদের সদস্যদের আবাসন সংকট দ্রুত কাটতে যাচ্ছে—আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বাসভবন বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ ও স্পিকারের জন্য আলাদা বাসভবনের ব্যবস্থা থাকলেও অন্য সদস্যদের জন্যও পর্যায়ক্রমে আবাসন নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে ১০ এপ্রিলের মধ্যেই বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
চিফ হুইপ আরও জানান, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস। তিনি বলেন, এখানে নাশকতার সম্ভাবনা আছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সমস্যার প্রযুক্তিগত দিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
হেডফোন নিয়ে অসন্তোষের কথাও তুলে ধরেন নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, “হেডফোনের ব্যাপারটা নিয়ে সকলের অভিযোগ, আমার নিজেরও অভিযোগ। এত বড় ঢাউস একটা হেডফোন মাথায় দিয়ে পার্লামেন্ট শোনা যায় না। মাথা গরম হয়ে যায়, কান গরম হয়ে যায়। এটা চেঞ্জ হবে।”
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটি দুটি বিষয় খতিয়ে দেখবে—প্রথমত কোনো নাশকতা হয়েছে কি না, এবং দ্বিতীয়ত সাউন্ড সিস্টেমে প্রকৃত সমস্যা কোথায় ও তা সমাধানের উপায় কী।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিন সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটির কারণে অধিবেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। পরদিনও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং হেডফোন ও শব্দব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ কমিটির সদস্যরা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত ১২ মার্চ উদ্বোধনী অধিবেশনের দিন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এই সংসদ কমিটি গঠন করা হয়, যার মূল দায়িত্ব সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা তদারকি করা।