
গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সরকারকে আর সহযোগিতা করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় পরবর্তী মহাসমাবেশ থেকে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) পাঁচ দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ আমাদের বিভাগীয় সমাবেশ শেষ হচ্ছে। ঢাকায় পরবর্তী মহাসমাবেশ থেকে বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক আসবে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবজির দাম দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। বিএনপি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারকে আর সহযোগিতা করতে পারছি না। সিলেটবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে জোটের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই বিপ্লব বিভিন্ন দেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু যে দেশে এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, সেখানে নতুন সরকার জনগণের রায় ও তরুণদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাচ্ছে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সরকার তা উপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “বিএনপি যদি জুলাই আন্দোলন, তরুণদের সংগ্রাম এবং শহীদদের আত্মত্যাগ ভুলে যায়, তাহলে এর রাজনৈতিক পরিণতি তাদেরই ভোগ করতে হবে।”
সংস্কার ইস্যুতে তিনি বলেন, “সংস্কার বনাম সংশোধনের বিতর্ক ঐকমত্য কমিশনে শেষ হয়েছে। সে সময় বিএনপি গণভোট ও সংস্কারের বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। অথচ এখন তারা সংস্কারের বিষয়টি অস্বীকার করছে, যদিও তাদের ৩১ দফা কর্মসূচিতেও সংস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে।”
সমাবেশে জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।