গত বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত অতিক্রম করে কয়েকশ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়ে একদল ইসরায়েলি উগ্রপন্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে স্থায়ী বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিচ্ছে। একই সময়ে 'বাশান পাইওনিয়ার্স' নামক একটি গোষ্ঠীর সদস্যরা সিরিয়ার হাদের গ্রামে প্রবেশ করে একটি ভবনের ওপর ইসরায়েলি পতাকা ওড়ায়। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টারের তথ্যমতে, পরবর্তীতে সেনাবাহিনী লেবানন ও সিরিয়া থেকে এসব বেসামরিক নাগরিকদের আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। সিরিয়া সীমান্ত থেকে অন্তত ৪০ জন ইসরায়েলিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সেনাবাহিনী।

নেপথ্যে 'বৃহত্তর ইসরায়েল' পরিকল্পনা

বিশ্লেষকরা এই অনুপ্রবেশকে তথাকথিত 'গ্রেটার ইসরায়েল' বা 'বৃহত্তর ইসরায়েল' প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখছেন। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ কট্টরপন্থী নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই গাজা ও পশ্চিম তীরের পাশাপাশি সিরিয়া, জর্ডান এবং লেবাননের কিছু অংশ ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো মূলত সেই রাজনৈতিক এজেন্ডাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও উদ্বেগ

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, এ ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

লেবানন ও সিরিয়া উভয় রাষ্ট্রই এই ঘটনাকে তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে উগ্রপন্থীদের এমন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি