
কারাগারে থাকা সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের আইনি সুরক্ষায় বড় এক নির্দেশনা দিলেন উচ্চ আদালত। এখন থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি মামলা ছাড়া তাঁকে নতুন করে অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার বা শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো যাবে না মর্মে আদেশ জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আজ রোববার (১৭ মে) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ সাবেক এই প্রধান বিচারপতির পরিবারের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।
রিট আবেদন ও দফায় দফায় গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট
আদালত ও আইনি সূত্র থেকে জানা গেছে, এর আগে পৃথক পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেছিলেন এ বি এম খায়রুল হক। তবে সেই জামিনের মেয়াদ চলাকালীনই গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি ভিন্ন ভিন্ন হত্যা মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয় (শ্যোন অ্যারেস্ট)। প্রশাসনের এমন দফায় দফায় গ্রেফতার দেখানোর পুরো প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বুধবার হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হক। সেই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষেই আজ এই নিষেধাজ্ঞা দিলেন আদালত।
কে এই বিচারপতি খায়রুল হক?
উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এবং ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত এই সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বিচারিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়টি তৈরি হয় ২০১১ সালের ১০ মে, যখন তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) বাতিল করে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজস্ব বাসভবন থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক আটকের পর জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই থেকে আজ অবধি তিনি কারাগারেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।