
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম-এর সভাপতিত্বে এক তীব্র পাল্টাপাল্টি বাক্যবিনিময় হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান-এর মধ্যে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান একাত্তর বিধিতে (পয়েন্ট অফ অর্ডার) দাঁড়িয়ে বলেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা গতকাল চলে যাওয়ার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ভালোবেসে বলেছেন যে, আমি এখানে অসত্য কথা বলেছি। আমি এটা জানতে পারলাম। আল্লাহ তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন—তিনি সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। এজন্যই আমি আজ ধন্যবাদ জানানোর জন্য দাঁড়িয়েছি।”
উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা ‘মিথ্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা তিনি অসংসদীয় হিসেবে উল্লেখ করে এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার) দাবি করেন। তিনি বলেন, “যদি অসত্য বলতেন, আমি আপত্তি করতাম না, কিন্তু এই শব্দটি অসত্য নয় বলেই আমি আপত্তি জানাচ্ছি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা দেন, “গতকালের প্রস্তাব সম্পর্কে আমি বলেছিলাম বিরোধীদলীয় নেতা অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। রুল ৬২ অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতাদের ওয়াকআউটের পর একজন বেসরকারি সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল, যা আগে পঠিত বা উত্থাপিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই তার বক্তব্য অসত্য ছিল।”
জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভ্রান্তি মূলত এখানে। একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সদস্য এনেছিলেন, যা গতকাল ভিন্ন নামে এসেছে। বিষয়বস্তু একই ছিল, শুধুমাত্র নাম পরিবর্তিত হয়েছিল। তিনি জানান, এটি জানার কারণে তিনি কোনো ভুল তথ্য দেননি।