
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকাসহ কয়েকটি সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান শুরু হবে। এরপর ৩ মে থেকে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালু করা হবে।
তিনি বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে এই টিকাদান কার্যক্রম বিরতিহীনভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।”
হামের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির প্রভাব এখন পড়েছে। ৫ এপ্রিল শুরু হওয়া কার্যক্রমের প্রথম দিনেই লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ অর্জন হয়েছে—৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
টিকা সংগ্রহ বিষয়ে তিনি জানান, টিকাগুলো ইউনিসেফ এবং গ্যাভি-এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে; অন্য কোনো উৎস থেকে কেনা হয়নি।
চিকিৎসা প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী আইসোলেশন বেড, ওয়ার্ড এবং আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে, ভেন্টিলেটর সরবরাহ জোরদার করা হচ্ছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধে কাজ চলছে এবং আগামী অর্থবছর থেকে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার, চিকিৎসক-নার্স এবং ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—এই তিন পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে না পারলে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাশাপাশি নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের দিকেও তিনি ইঙ্গিত করেন।