
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের শর্ত দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনায় ইরান এই শর্ত অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাস।
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্তকারী প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। প্রণালিটির এক পাশে ইরান এবং অপর পাশে ওমান অবস্থিত।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করলেও বর্তমানে ইরানের অবরোধের কারণে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজই চলাচল করতে পারবে এবং সেগুলোর গতিবিধি ইরানের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে পরিচালিত হবে।
এ প্রক্রিয়া তদারকি করবে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল এখন থেকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ উভয় পক্ষের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফা এবং ইরানের পক্ষ থেকে ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনায় তোলা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে এমন কড়াকড়ি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। শুধু তেল নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহও এতে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।