
পশ্চিমবঙ্গ আজ রাজনীতির উত্তাপে যেন উত্তাল সমুদ্রের মতো। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক জনসভায় তোপ দিচ্ছেন একে অপরের দিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাসে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে। মোদি তৃণমূল সরকারের কার্যকারিতা ও শিল্পখাতের অবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেন, আবার মমতা বিজেপির নীতি ও কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপকে নিশানা বানান।
মোদি হলদিয়া, আসানসোল ও সিউড়িতে তিনটি জনসভায় বলেন, ‘বাংলায় পরিবর্তনের ঝড় শুরু হয়েছে। এই ঝড়ে তৃণমূল খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। এবার রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠিত হবে।’ তিনি শিল্প খাতের ‘সিন্ডিকেট’ ও ‘তোলাবাজি’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মানুষ কাজ হারিয়ে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও মোদি সরব, ভোটব্যাংক রক্ষার জন্য তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই দিয়ে রাজ্যকে কারখানা বানাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ, পলতা, পানিহাটি ও বাগুআটিতে চারটি জনসভা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে, তবে এতে তৃণমূলের জয় রোধ করা সম্ভব নয়। মমতা বলেন, ‘বিজেপি বাংলা দখল করতে চায়, মানুষের কথা বলা ও মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করতে চায়। তারা সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করতে চায়।’ এ সময় তিনি সুন্দরবন অঞ্চলে ‘সুন্দরবন জেলা’ গঠনের ঘোষণা দেন।
রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই আজ একটি আবেগঘন মুহূর্ত ঘটে। আরজি কর হাসপাতালে নিহত নারী চিকিৎসক অভয়ার মা রত্না দেবনাথ উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি বলেন, ‘৯ তারিখ আমার জীবনের ঐতিহাসিক দিন। এই তারিখেই আমার মেয়ের জন্ম, মৃত্যু এবং আজ তার হত্যার বিচারের দাবিতে মনোনয়নপত্র জমা দিলাম।’ সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি ও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। রত্না দেবনাথ জানান, সাধারণ মানুষ তার পাশে আছেন এবং মেয়ের বিচারের দাবিতেই তিনি নির্বাচনে নেমেছেন।
আজকের দিন রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে চিহ্নিত হবে—মোদি-মমতার মুখোমুখি লড়াই, জনসভায় প্রতিশ্রুতি ও সমালোচনার উন্মাদনা এবং ব্যক্তিগত আবেগের সঙ্গে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার মিশ্রণে রাজ্যজুড়ে একটি উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে।