মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির ভেতর হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে এখন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। প্রণালি অতিক্রমের আগে ইরানের লিখিত ছাড়পত্র না মেলায় জাহাজটির অগ্রযাত্রা আটকে আছে, আর সেই ছাড়পত্রের অপেক্ষাতেই নির্ধারিত হচ্ছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
বৃহস্পতিবার বিকালে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল এবং শুক্রবার সকাল নাগাদ প্রণালির মুখে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কিংবা ছাড়পত্র না মিললে জাহাজটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বহির্নোঙরে ফিরে যেতে হতে পারে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাহাজটি হরমুজের দিকে এগুচ্ছে। ছাড়পত্র না পেলে এটি শারজাহ উপকূলে ফিরে যাবে।’ তিনি আরও জানান, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিকভাবে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এর আগে দীর্ঘ ২৮ দিনের অনিশ্চয়তা পেরিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরুর পর পারস্য উপসাগরে আটকে পড়েছিল জাহাজটি। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর (বুধবার, ৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা হয়। জাহাজটিতে রয়েছেন ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক।
এই যাত্রাপথও সহজ ছিল না। জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাসের পর দেশে ফেরার চেষ্টা করেও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে হয়েছিল জাহাজটিকে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় একাধিকবার পথ বদলাতে হয়েছে, যেন উত্তাল সাগরে পথ হারানো এক নাবিকের মতো বারবার আশ্রয় খুঁজেছে জাহাজটি।
এদিকে একই সংকটে আটকে আছে আরেকটি জ্বালানি বহনকারী জাহাজ ‘নার্ডিক পোলাক্স’। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে এক মাসের বেশি সময় ধরে স্থির হয়ে আছে এটি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জন্য প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল বহন করলেও এখনো যাত্রা শুরু করতে পারেনি। ছাড়পত্র না মেলায় এ জাহাজের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত এই পথ পাড়ি দিতে প্রতিটি জাহাজকেই কঠোর নজরদারি ও অনুমতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সেই প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এখন যেন এক সূক্ষ্ম সীমানায় দাঁড়িয়ে, যেখানে এক টুকরো কাগজের অনুমতিই নির্ধারণ করবে তার গন্তব্যে পৌঁছানো, না কি আবার ফিরে যাওয়া।