
জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাঙ্গামাটিতে নতুন নিয়ম চালু করেছে জেলা প্রশাসন, আর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাম্পগুলোতে। নির্ধারিত সময়সূচি মেনে শহরের সব ফিলিং স্টেশন থেকেই একযোগে জ্বালানি বিতরণ করতে দেখা গেছে।
সোমবার (২৯ মার্চ) নতুন ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও গণপরিবহন ডিজেল নিতে পারবেন, আর দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সরকারি যানবাহনের জন্য বরাদ্দ থাকবে। অন্যদিকে শনিবার, সোমবার ও বুধবার একই সময়সূচিতে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ করা হবে। গত শনিবার বিকেল থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে অবৈধ মজুদ প্রতিরোধ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সোমবার সকাল থেকেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাম্পগুলোতে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি চলতে দেখা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি পাম্পে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাতসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা পাম্পগুলো পরিদর্শন করেন। শৃঙ্খলা ফেরায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরাও।
পাম্প ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই মানুষ ট্যাংক, গ্যালন ও প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, যদিও বিক্রি শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে। আগেভাগে সিরিয়াল নিশ্চিত করতে অনেকেই ভোরেই এসে উপস্থিত হন। তবে কিছু গ্রাহক সময়সূচি এক ঘণ্টা এগিয়ে সকাল ৮টা থেকে শুরু করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে অফিসগামীদের সুবিধা হয়।
এদিকে জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব পড়ছে নৌ চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে। রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, জেলার ১০ উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক জ্বালানি সরবরাহ হচ্ছে। ফলে নৌপথ, কৃষিকাজের সেচ ও পর্যটন মৌসুমে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।
তাদের তথ্যমতে, কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ১০টি রুটে ৩০টির মতো লঞ্চ চলাচল করে, যেখানে প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার তেল প্রয়োজন হয়। বর্তমানে হাতে থাকা জ্বালানি দিয়ে সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই দিন লঞ্চ চালানো সম্ভব হলেও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন ও ইউএনওকে জানানো হয়েছে।
বনরুপার ‘মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প’-এর ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল বলেন, “নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জ্বালানি বিক্রি করছেন। ফলে স্বস্তিতে আছেন সবাই।”
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা, রাঙ্গামাটি জোনের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, “তেল যা মজুদ আছে। তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই দিন চলবে। এর মধ্যে তেল পাওয়া গেলে তবেই লঞ্চ চলাচল করবে। না হয় চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আমরা বিআইডব্লিউটিএসহ বিভিন্ন সংস্থাকে অনুরোধ করেছি।”
জ্বালানি সরবরাহ তদারকিতে গঠিত ভিজিল্যান্স টিমের জেলা আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, “পরীক্ষা মূলকভাবে রুটিন পদ্ধতিতে বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। পাশাপাশি পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।”