
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিন্যান্স বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ক্রিয়াশীল নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দেশে সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। ফিন্যান্স বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘যদি প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারত, তবে আমাদের ভাইকে এভাবে নির্মমভাবে জীবন দিতে হতো না।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে। মা-বোনদের ওপর নির্যাতন ও একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়াও তিনি অনতিবিলম্বে বুলেট বৈরাগীর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মাঈন আল মুবাশ্বির সাবেক শিক্ষার্থী বুলেট বৈরাগীর নির্মম হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার ২০০-এর বেশি আসন নিয়েও নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কেবল উন্নয়নের বুলি আওড়ায় এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই বিপ্লবের অবদানকে অস্বীকার করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের ‘নাটকীয় কার্যকলাপ’ বন্ধ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে রাজপথে নেমে জুলাইয়ের চেতনায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এসির বাতাস খাচ্ছেন, অথচ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছেন না। ৫ আগস্টের কথা ভুলে যাবেন না; যদি বিচার নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে এই গদি আবারও উল্টে দেওয়া হবে।’
ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আকাশ বলেন, জনগণ পরিবর্তনের জন্য জীবন বাজি ধরেছিল, কিন্তু সেই পরিবর্তন আসেনি। যে রাষ্ট্র একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার অধিকার নেই। তিনি বলেন, হয় নিরাপত্তা দিন, না হয় পদত্যাগ করুন।