 ইতিহাস বিভাগের.webp)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং দেওয়ার অভিযোগে ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে গভীর রাতে নবীনদের ডেকে নিয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। প্রশাসনের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাও লিখিতভাবে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।
অভিযুক্তরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা হলেন সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাইম আহমেদ সজিব।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে প্রথমে মহুয়া মঞ্চের সামনে এবং পরে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে যেতে বলা হয়। সেখানে কিছু সময় অপেক্ষা করানোর পর তাদের মাঠসংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ‘ফরমাল পরিচয়’ ও ‘ম্যানার শেখানোর’ কথা বলে নবীনদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগ করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক অভিযোগ করেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং শাস্তিমূলক ভঙ্গিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরে জাকসুর কয়েকজন নেতা এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা এসে তাদের উদ্ধার করেন।
একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান দাবি করেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের কার্যক্রমের নামে রাত গভীর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঠে রেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা কার্যালয়ে নিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন বলে জানান তিনি।
প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩ নবীন শিক্ষার্থীকে ডেকে এনে র্যাগিং দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।