
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ২৪ হলে শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও করার অভিযোগে হলের ক্যানটিনকর্মীকে হাতেনাতে আটক করেছেন ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা।
বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি সামনে আসতেই পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, ওয়াশরুম ব্যবহারকালে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোনের উপস্থিতি টের পান তাঁরা। পরবর্তীতে ঘটনা যাচাই করে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে (পিতা আসাদুজ্জামান) আটক করা হয়। অভিযুক্ত ইমাম হাসান গত দুই বছর ধরে বিজয় ২৪ হলের ক্যানটিনে নিয়োজিত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার জানাজানি হতেই হলের প্রতিটি ব্লক থেকে সাধারণ ছাত্রীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে অভিযুক্তকে হলের এক রুমে আটকে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এ ঘটনার পর হলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
এদিকে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ঘেঁটে বেশ কয়েকটি গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠে এসেছে, ইমাম হাসান দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক গলে ভিডিও ধারণ করতেন এবং সেসব ফুটেজ বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে দিতেন। অবশ্য এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, নারী হলের মতো অত্যন্ত সংরক্ষিত স্থানে এ জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা চরম উদ্বেগজনক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্য উন্মোচন করা এবং দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ও প্রশাসনিক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তাঁরা।
একই সঙ্গে হলে বহিরাগত ও বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্মচারীদের যাতায়াতে কঠোর মনিটরিং, সিসিটিভি ক্যামেরার পরিধি বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট জানান:
"ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।"
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর থেকেই খুবি প্রাঙ্গণজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি তুলছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।