
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই জরুরি সাধারণ সভা করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে শিক্ষক সমিতি জানিয়েছে, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল, চুয়েটে কর্মরত প্রকৌশল শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ এবং পূর্বঘোষিত পূর্ণ কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবা কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে।
‘চুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে উপাচার্য মানব না’
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, জরুরি সাধারণ সভায় শিক্ষকরা নিজেদের দাবির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। চুয়েটের বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষকরা তা মেনে নেবেন না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘জরুরি সাধারণ সভায় আমরা সবাই আমাদের দাবির বিষয়ে একমত হয়েছি। চুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে আমরা কোনোভাবেই উপাচার্য হিসেবে মেনে নেব না।’
কর্মবিরতির কারণে একাডেমিক কার্যক্রমে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও কথা বলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি। তাঁর ভাষ্য, সামনে দুর্গাপূজার ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে সংকটের সমাধান না হলে ওই সময় পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
অতিরিক্ত ক্লাসে একাডেমিক ক্ষতি পোষানোর আশা
অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী মধ্যপর্বের ছুটিতে থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে একাডেমিক ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যেসব শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল, তাদের অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন বৃহস্পতিবার ১৭তম দিনে পৌঁছেছে। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসছেন—এমন গুঞ্জনের মধ্যে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অবস্থান
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিও অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা শেষ হওয়ার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষকরাও ওই কর্মসূচিতে যোগ দেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত অবস্থান কর্মসূচি চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
অন্যদিকে গত ২৪ তারিখ অনলাইনে যোগদান করলেও নবনিযুক্ত উপাচার্য এখনো চুয়েট ক্যাম্পাসে আসেননি।
আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, চলমান সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ বা সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।