
ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ঘিরে ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, স্মারকলিপি এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিষয়টি এখন আলোচনায়।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে এক বিচারপতি অভিভাবকের বাসভবনে ডেকে নিয়ে অপমান করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশও যায়।
অন্যদিকে ওই বিচারপতির পক্ষ থেকে রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কোচিংয়ে না যাওয়ায় বিচারপতির সন্তানকে মারধর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকিমূলক প্রচারণার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি নিয়মিত কোচিং করান না। পরিচিত কয়েকজনের সন্তানের সঙ্গে নিজের সন্তানকে নিয়ে সীমিত পরিসরে পড়াশোনা করাতেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী কিছুদিন সেখানে এলেও পরে আর যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (১৬ এপ্রিল)। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্মারকলিপির বর্ণনা অনুযায়ী, দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পদার্থবিজ্ঞানের ক্লাসে বাংলা বিষয়ের একটি প্রশ্ন নিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে জানতে চায়। শিক্ষক তাকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে এ নিয়ে কথোপকথনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর আচরণকে ‘অশোভন’ মনে করে তাকে থাপ্পড় দেন শিক্ষক।
ওই শিক্ষক দাবি করেন, ঘটনার পর তিনি নিজেই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সরাসরি আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন। পরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে অভিভাবকের বাসায় যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তার সঙ্গে আরেক শিক্ষকও ছিলেন।
পরে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। কয়েক দিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদে নামে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিচারপতির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমানের মাধ্যমে করা জিডিতে পুরো ঘটনার বিবরণ, ফোনালাপ, স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাহাৎ খান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও হুমকির অভিযোগসহ কয়েকটি বিষয় জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।