
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি প্রকাশিত একটি পোস্টে ‘ইশ, একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামের এক তরুণকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য ঘিরে মামলা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই মো. ইয়াছিন পাইক আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটির ক্যাপশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাজশাহীতে লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের কারণ জানতে চাওয়া হয়।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ওই পোস্টের মন্তব্যের অংশে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক হিসাব থেকে লেখা হয়, ‘ইশ, একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই হিসাবের ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তার বাবার সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোবাইল ফোনে আরও তথ্য পাওয়ার দাবি
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনটি পরীক্ষা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্য করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়।
মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ থাকা অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।