খাগড়াছড়িতে বিএনপির মিডিয়া সেলের লোক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৪
- খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
- প্রকাশঃ ০৭:০৮ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৫

খাগড়াছড়িতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করতে আসা চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আরও ৭ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় সোমবার রাতে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মো. আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের একাধিক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তারা কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। তাদের বহনকারী একটি প্রাইভেট কার আটক করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মাহবুবুর রহমানের ছেলে তোফায়েল আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান রিয়াদ, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার আবদুল মতিনের ছেলে মোকতাদির হোসেন ও গুইমারার মো. জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. আল আমিন।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গ্রেপ্তার চার ব্যক্তি ছাড়াও আরও ৭ জন গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে প্রাইভেট কারে করে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার রাকীব ও সেন্টুর ব্রিক ফিল্ডে যান। তারা নিজেদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধি ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এক পর্যায়ে তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করেন। ব্রিক ফিল্ডের মালিক সেন্টুর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে তিনি ভয়ে এক লাখ টাকা দেন। এরপর মামলার বাদী মো. আলমগীরের ব্রিক ফিল্ডে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন প্রতারকরা। তিনি এক লাখ টাকা দিতে চাইলেও তা না নিয়ে উল্টো তাকে ধমক দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতিকে জানানো হলে কয়েকজন মালিকসহ অন্য লোকজন ঘটনাস্থলে এলে প্রতারকরা আরও ক্ষিপ্ত হন। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সোমবার দুপুরে চার ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে অফিসে এসেছিলেন। তারা নিজেদের বিএনপির মিডিয়া সেলের লোক বলে পরিচয় দেন। তারা তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে চলে যান।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানান, এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চার ভুয়া সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।